সেখানে নানা ধরনের আলপনা দেখা যায় এবং একেকটি একেক রকম। সেখানে নেই ডিজাইন নকল করার অভিযোগ কারোর মাঝে। রয়েছে একেকঘরের একেক রকম স্বকীয় বৈশিষ্ট্য।
গ্রামে রয়েছে একটি আখড়া। "শ্রী শ্রী জগন্নাথ আখড়া"। সে আখড়ায় অন্যান্য গ্রামের মানুষসহ সবাই দুপুরের দিকে আসতে শুরু করে। সেখানে দেখা যায় কেউ কেউ নতুন কাপড় পরে আবার কেউ কেউ পুরোনো জামাটা ধুয়ে পরিষ্কার করে পড়ে আসছে।
তবে সবারই একটা বিষয়ে মিল আছে, কেউই জুতা পরে আসে নি।
আখড়ায় দেখা মিলে এমন মানুষদেরও যারা কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে বাইরে ছিলো।
গ্রামের সবাইকে একসাথে দেখে অনেক ভালো লাগে। সবার চেহেরায় যেন এক উৎসবমুখর মনোভাব ফুটে আছে।
সংক্রান্তির দিনে মহিলারা ছাড়া গ্রামের সবাই বাড়ি বাড়ি কীর্তনে যায়। এ সুযোগে পুরো গ্রামের সবার বাড়ি যাবার সুযোগ হয়ে উঠে।
এখনো যে কিছু মানুষ মাঠি বা টিনের ঘরে জীবন কাটাচ্ছে, সেগুলোও চোখে পড়ে তখন।
সংক্রান্তির এই দিনে সবাইকে একটা হাসিখুশি চেহারায় দেখা যায়। উচ্ছ্বাস, উদ্দিপনা সবই দেখা যায়।
বাড়ির উঠানের আলপনার সামনে নানা রকম ফল, মিস্টি জাতীয় নানা উপকরণ যেমন, তিল্লাই, কদমা, বাতাসা, নকুল এসব সাজিয়ে রাখা হয়। পরে কীর্তন শেষে উড়িয়ে বিলিয়ে (লোট) দেয়া হয়।
একটা লোট ধরার জন্য এত কাড়াকাড়ি, এত আগ্রহ যেন ধরতে পারলেই সব সুখের কাড়ি মিলবে।
যারা বয়স্ক বা যারা নিজেদের জন্য কোন ঝুঁকি নিতে চায়না, তারা লোট ধরতে যায় না।
তবে মজার ব্যাপার হল, এবার কেউ তেমন কোন দূর্ঘটনার শিকার হয় নি।
সবার নজর যায় কার বাড়িতে কতবড় লোটের আয়োজন সেদিকে। মনে তরুণ এমন লোকদের ইচ্ছে হল বেশি বেশি লোট দেয়া হোক উড়িয়ে উড়িয়ে। প্রবীণদের ভয় কেউ যদি আঘাত পায়? সবাই ত লোট পায় না সেটা নিয়েও ত মনোকষ্ট।
দুপুর দুইটায় শুরু হওয়া কীর্তনের সমাপ্তি হল রাত একটা পনেরোতে। গ্রামের সবার ঘরেই নানা রকম পিঠা বানানোর হিড়িক পড়ে। কারো ঘরে কেউ গেলে বিভিন্ন পিঠা দিয়েই শুরু হয় আপ্যায়ন। তেলে ভাজা পিঠা, নারিকেল, দুধ দিয়ে তৈরি পিঠা, চালের গুড়ি দিয়ে তৈরী পিঠা। আখের রস দিয়ে তৈরি বিশেষ মিস্টি জাতীয় তরল (লালী বলি আমাদের এখানে) সবার ঘরেই পাওয়া যাবে।